নেপালকে অর্থনৈতিক বৈচিত্র আনতেই হবে, নাহলে সমূহ বিপদ


নেপালকে অর্থনৈতিক বৈচিত্র আনতেই হবে, নাহলে সমূহ বিপদ


শ্রীলংকা ও বাংলাদেশ থেকে শিক্ষা নিতে হবে নেপালকে 

এবং, তারপর (১৬/০৯/২০২৫ )  : হিমালয়ের কোলে ছোট্ট দেশ নেপাল, ভৌগলিক দিক থেকে যেমন গুরুত্বপূর্ণ,, রাজনৈতিকভাবেও তেমনি সংবেদনশীল।  ভারতের সাথে গভীর সম্পর্ক ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব  নেপালকে এক বিশেষ ভূরাজনৈতিক অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।  কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক দুর্বলতা এবং সামাজিক চাপে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই শ্রীলংকা, ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তির মত মনে হচ্ছে। একইভাবে এই দেশগুলিতে মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে এসে বিদ্রোহ প্রদর্শন করেছে। সরকারি সম্পত্তি বিনষ্ট করেছে। সরকারের পতন ঘটেছে এবং রাষ্ট্রনায়করা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন। 

নেপালে বার বার সরকার পরিবর্তন, জোট রাজনীতি ও নেতৃত্বের অভাব সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করেছে।  শ্রীলংকাতেও একক রাজনৈতিক পরিবার তন্ত্র ও ভুল সিদ্ধান্ত জন রোষ সৃষ্টি করেছিল। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও বিরোধী দলীয় সংকট গন্তান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট।  তিন দেশেই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা অর্থনীতি ও সমাজকে সরাসরি প্রভাবিত করেছে। 

নেপালের অর্থনীতি প্রধানত রেমিটেন্স (দেশের বাইরে থেকে রোজগার) ও পর্যটনের  ওপর নির্ভরশীল। কোভিড  পরবর্তী সময়ে অন্যান্য দেশের মত নেপালেও পর্যটনে ধাক্কা লেগেছে। রেমিটেন্স রোজগারেও অনিশ্চয়তা দেখা দিচ্ছে।  শ্রীলংকা ঋণ  নির্ভর অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতিতে দেউলিয়া হয়েছিল। বাংলাদেশে রিজার্ভ সংকট, ঋণের চাপ ও আমদানি ব্যয় বাড়ায় অর্থনীতিই চাপে পড়েছিল।  সুতরাং নেপাল যদি এখনই অর্থনৈতিক বৈচিত্র না আনে, তবে একই ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে।  

বেকারত্ব, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবায় ঘাটতি নেপালের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা বাড়িয়েই চলেছে। শ্রীলংকায় সংকটের সময় মানুষ জ্বালানি, খাদ্য ও ওষুধের জন্যে রাস্তায় নেমেছিল। আবার  বাংলাদেশেও মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্ব জনজীবনকে কষ্টদায়ক করে তুলেছিল। সম্প্রতি নেপালের তরুণ সমাজ ধীরে ধীরে সেই চাপ অনুভব করতে শুরু করেছিল।

নেপাল দুই বৃহৎ শক্তি ভারত ও চীনের মাঝে অবস্থান করছে। ভারতের সাথে খোলা সীমান্ত বাণিজ্য কর্ম সংস্থানের নতুন সুযোগ দিলেও অর্থনৈতিক নির্ভরশীল করে তুলেছিল নেপালকে। চীনের বিনিয়োগ আবার নতুন প্রভাব বিস্তার করেছে। শ্রীলংকা চীনের ঋণ  ফাঁদে পড়ে ভুগেছিল। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ঋণ  সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। নেপালের জন্যে বিদেশী প্রভাব এখনো সহায়তা হলেও, ভবিষ্যতে তা চাপ হয়ে উঠতেই পারে। 

নেপাল এখনও  শ্রীলংকা বা বাংলাদেশের মতো চরম সংকটে না পৌঁছালেও, পরিস্থিতি ক্রমেই সেই দিকে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত করছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছ অর্থনীতি ও ও সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া নেপালের ভবিষ্যৎ বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে। তাই এখনই নেপালকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, জনবান্ধব নীতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কাজে লাগিয়ে পথ চলতে হবে।  অন্যথায় ইতিহাস নিজের পুনরাবৃত্তি করবে, আর সেক্ষত্রে নেপালও  হয়ত শ্রীলংকা ও বাংলাদেশের মতো দুঃসময়ের মুখোমুখি হবে। 

লেখক : অরিন্দম নন্দী 

Comments

Popular posts from this blog

কাশ্মীর নিয়ে ভারত আর আপস করতে রাজি নয় !

নতুন আমেরিকাও কি ভারতের বন্ধু হয়ে উঠবে ?