Posts

Showing posts with the label দেশ

জঙ্গীদের এতো সাহস আসে কোথা থেকে ?

Image
এবং তারপর :   কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈশরণ  উপত্যকায় পর্যটকদের ওপর জঙ্গীরা যে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যাকান্ড করে গেল, তাতে গোটা ভারতের আত্মা পর্যন্ত কেঁপে উঠেছে।    জঙ্গীরা এসেছিল পাকিস্তান থেকে। সীমান্ত পার করে তারা আট কিলোমিটার ট্রেক করে এসে পৌঁছেছিল বৈশরণ  উপত্যকায়। সেখানে তারা ক্যাম্প করে  ছিল, ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ৪০ মিটার দূরে। তাদের অস্থায়ী শিবির থেকে অকুস্থলের ওপর নজর রাখা কংবা রেইকি করা নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী হয়ে  তবেই তারা তাদের টার্গেটকে হিট করেছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি নম্বর  বিহীন মোটর সাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে, অবশ্য এখনো জানা যায় নি এই মোটরবাইকটি কাদের। পহেলগাঁওয়ের হত্যাকান্ড অবশ্যই তাৎপর্যপূর্ণ। এখানে জঙ্গীরা নির্বিচারে  গুলি চালিয়ে ভারত সরকারকে একটা নির্দিষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে , বলতে চেয়েছে "তোমাদের থোড়াই কেয়ার করি"।  কয়েকজন পর্যটকদের গুলি করে মেরে ফেলে কয়েকজনকে ছেড়ে দিয়েছে আর বলেছে যায় মোদীকে গিয়ে বলো,, যেন পাড়ার গুন্ডা বলছে ডাক তোর কে বাবা আছে ?  কিসের জন্যে এই বার্তা ?  তিন তালাক তু...

খাঁচার মধ্যে ভয়ে কাঁটা, বলির পাঁঠা

Image
এবং তারপর, 27/12/2021 :  বলির পাঁঠা, অদ্ভুত শব্দ যুগল ! অর্থাৎ বলি দিতে হলে একটাই পশুর নাম উচ্চারণ করা হয়। আর সে হল পাঁঠা বা ছাগল। তা সে বলি দিতেই হোক, চামড়া ছাড়িয়ে মাংসের দোকানে হেঁট মুণ্ড উর্দ্ধ পদে ঝুলিয়ে রাখাই হোক অথবা সুন্দরবনের গ্রামে বাঘ ধরতে ফাঁদ পাতার জন্যেই হোক। বলির উৎসর্গ হতে হবে পাঁঠা বা ছাগলকেই।  কুলতলি বা ঝড়খালি গ্রামগুলো একেবারেই সুন্দরবন্ লাগোয়া। এই গ্রামগুলোতে প্রায়ই বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পাওয়া যায়। নদী সাঁতরে সুন্দরবনের অরণ্য থেকে বাঘ ঢুকে পড়ে বন লাগোয়া গ্রামগুলোতে। বাঘের পায়ের ছাপ দেখা গেলেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে, খুব স্বাভাবিক সেটা। মুহুর্তে খবর চলে যায় পুলিশ এবং বন দপ্তরে।  বাঘ আগমনের খবর পেয়ে তৎপর হয়ে ওঠেন বন দপ্তরের আধিকারিকরা। শুরু হয়ে যায় বাঘ খোঁজার প্রাথমিক কাজ কর্ম। এবার কিভাবে যেন খবর পৌঁছে যায় সংবাদ মাধ্যমে। সংবাদ পত্রে বা টেলিভিশনে বাঘের পায়ের ছাপ দেখেই সরকার বাহাদুরের কপালে চিন্তার ছাপ পড়তে শুরু করে। ওপর মহল থেকে চাপ আসতে থাকে যাতে দ্রুত বাঘ ধরা হয়। যেন একজন মানুষের (ভোটারের) গায়েও আঁচড়টুকুও না লাগে। ওপর মহলের চাপ এসে পড়ে ঘটনা...

বছরে ৫ বা তার বেশি ঘূর্ণিঝড় দেশে বিপর্যয় ডেকে আনছে

Image
  লেখক : অরিন্দম নন্দী  (সাংবাদিক) এবং তারপর, ২৮/০৫/২০২১ :  ভারতবর্ষে ক্রমশই বেড়ে চলেছে ঘূর্ণিঝড়। তা সে বঙ্গোপসাগরেই  হোক অথবা আরব সাগরে। প্রতিবছর একাধিক ঘূর্ণিঝড়ের সম্মুখীন হতে হচ্ছে ভারতবাসীকে। আর এই ঘূর্ণিঝড়গুলির কারন হিসেবে দেশের জলবায়ুর পরিবর্তনকেই দেখছেন ভূবিজ্ঞানীরা। ভারতে জলবায়ু এখন বেশ কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। ঠিক সময় অর্থাৎ ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে আবহাওয়ার পরিবর্তন হচ্ছে না দেশের সব জায়গায়, এর ফলে বাড়ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ফলে বেড়ে চলেছে দুর্ঘটনা এবং মৃত্যুর সংখ্যাও। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানুষের বদভ্যাস, নিয়ন্ত্রণহীন জীবন ও জীবিকাকেও দায়ী করেছেন বিজ্ঞানীরা। এমনকি অজ্ঞতা এবং শিক্ষার অভাবের কারণেও বিধ্বংসী প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে আসছে মানুষের জীবনে। ভারতবর্ষের মত দেশেও উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা কিনা গোটা বিশ্বের সামনেও বিরাট মাপের বিপদকে এগিয়ে আনছে।  সমস্যাটা হল, ভারতে এই বিষয়গুলি নিয়ে সেভাবে প্রচার করা হয় না।  দেশে উষ্ণতা বাড়ছে, অথচ সেই উষ্ণতা থেকে রেহাই পেতে প্রত্যেকে ঘরে এয়ার কন্ডিশন লাগিয়ে যাচ্ছেন সামর্থ্য অনুযায়ী। বাতানুকূল মেশিনগুলি থেকে সমষ্ট...

লক ডাউনের পর এবার কি ? জানতে চাইছে গোটা দেশ

Image
"এবং তারপর",  অরিন্দম নন্দী , ২৮/০৫/২০২০ :    গত বছর ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে করোনা তার বিষাক্ত ফনা তুলে  রেখেছে। দুনিয়ার তাবড় দেশগুলো, যারা এতদিন নিজেদের সবচেয়ে এগিয়ে থাকা উন্নত দেশ বলে গলা চড়াত, যারা  অহংকারে আর ধরিত্রী স্পর্শ করতে চাইত না, বক্র হাসি ঠোঁটের ধারে খেলিয়ে যারা এতদিন দুনিয়াকে শাসন করবে বলে স্বপ্ন দেখছিল, আজ তারাই  এই ভাইরাসের সামনে নতজানু হয়ে প্রাণ আর মান  বাঁচাতে ব্যস্ত  উঠেছে। বাঘা বাঘা মিসাইল, উন্নত প্রযুক্তির উপগ্রহ কিংবা পারমানবিক অস্ত্র কিছুই আর কাজে আসছে না ধুলোর থেকেও মিহি এক অচেনা শত্রুর সামনে।  গোটা দুনিয়ায় লক্ষ লক্ষ মানুষ এখন ভীষণভাবে অসহায় হয়ে পড়েছে এমন এক শত্রুর সামনে, যাকে  সেভাবে চোখেই  দেখা যায় না অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া, আর  ঠিক এখানেই ভূপতিত মানব অহংকার। প্রকৃতির সামনে অসহায় উন্নত মানব সমাজ। পরাজিত বন্দী সৈনিকের মত দেখতে লাগে। যদি এমন প্রশ্ন ওঠে, করোনা মহামারীর জন্যে মানব সমাজের সবচেয়ে ক্ষয়ক্ষতি কোন জায়গায় হয়েছে ? তার উত্তর হবে অর্থনীতি। ক...

মা ও তার সন্তানের গল্প

Image
এবং তারপর, ২২/১১/২০১৯ :   একটি মা ও তার সন্তানের গল্প, তবে কিনা এটি গল্প নয়, ঘোর বাস্তব। পশ্চিমবাংলার দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুরের কাছে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের ঘটনা। এক ২২ বছরের তরুণী, সন্তানসম্ভবা অবস্থায় জানতে পারল যে তার স্বামী আর তাকে রাখবে না;  দেহের মধ্যে তিল তিল করে বাড়ছে আর একজন। গত বছরই বিয়ে হয়েছিল তাদের, এর মধ্যেই তার স্বামীর আর তাকে ভাল লাগছে না, এবার কি হবে ? পেটের  বাচ্ছাকে নিয়ে কোথায় যাবে সে ? আকাশ ভেঙে পড়ল তরুণীর মাথায়। সে নিজে শিক্ষিত নয়, যে কোথাও চাকরি নেবে ?  এমন কিছু সে কাজও  জানে না, যে অন্য্ কোনো কাজ করে দিন গুজরান করবে ! তাছাড়া অন্ত:সত্তা হওয়ায় তার শারীরিক অবস্থায় তো তেমন ভাল নয়; চিরকালই সে একটু ছিপছিপে গড়নের। তরুণী ভাবতে থাকে, এবার কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সে ? কার কাছে গিয়ে সাহায্য পাবে ? কি খাবে ? বাচ্ছাকেই বা কি খাওয়াবে ? এতদিন যাকে তার জীবন সঙ্গী হিসেবে ভেবেছিল, যাকে একমাত্র আশ্রয় হিসেবে ভেবেছিল, এক হঠাৎ এবং কঠোর নিদানে  সে চলে গেছে যেন কত কত দূর; তাকে যে বোঝাবার চেষ্টা করেনি ঐ গৃহবধূ তা নয়, কিন্তু স্বামীর ঐ এক কথা...