Posts

ইরানে কেন যুদ্ধ হচ্ছে ? ইরানের যুদ্ধ নিয়ে যে সব প্রশ্ন মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে

Image
এবং তারপর, ০৪/০৩/২০২৬ :  আজকের প্রসঙ্গ হল 'ইরানের যুদ্ধ'।  আমরা জানতে চাই ইরানের  সাথে কেন আমেরিকা যুদ্ধে লিপ্ত হল ? কেন এই যুদ্ধ ?  ইরান, ইজরায়েল  ও আমেরিকার সমস্যাতা ঠিক কোথায় ? কেন   সংঘাতের পরিবেশ তৈরী হচ্ছে ? যেন এই সংঘাতে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ যাচ্ছে ?  ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এখনো ঘোষণা হয়নি, কিন্তু বহু বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে তীব্র বৈরিতা, নিষেধাজ্ঞা, প্রক্সি সংঘাত ও সামরিক উত্তেজনা চলছে। বিষয়টি বোঝার জন্য ইতিহাস, ভূরাজনীতি ও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো একসাথে দেখতে হবে। ১️⃣ ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লব – সম্পর্কের ভাঙন ১৯৭৯ সালে Iranian Revolution –এর মাধ্যমে Ayatollah Ruhollah Khomeini ক্ষমতায় আসেন। এর আগে ইরান ছিল আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র, শাহ Mohammad Reza Pahlavi –এর শাসনে। বিপ্লবের পর তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখল করে ৫২ জন আমেরিকানকে জিম্মি করা হয় (Hostage Crisis)। এটাই দুই দেশের সম্পর্ক ভাঙনের প্রধান সূচনা। ২️⃣ পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ আমেরিকার অভিযোগ: ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে চায়। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধক...

কাশ্মীর নিয়ে ভারত আর আপস করতে রাজি নয় !

Image
এবং তারপর, ০৩/১০/২০২৫ আন্তর্জাতিক (আজ খবর) :  ভারত–পাক সীমান্তে ফের একবার উত্তেজনা বাড়ছে। পাক অধিকৃত কাশ্মীর (PoK)-এ সাধারণ মানুষ সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী সেই আন্দোলন দমন করতে গুলি চালাচ্ছে, যার ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এদিকে ভারতীয় সেনা জানিয়েছে, তারা প্রয়োজনে “অপারেশন সিঁদুর ২”-এর জন্য প্রস্তুত। ফলে দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ভারত–পাক সীমান্তে ছোটখাটো সংঘর্ষ এবং গুলি বিনিময়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সীমান্তবর্তী গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ভারতীয় সেনা জানিয়েছে, পাকিস্তান একাধিকবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে এবং সন্ত্রাসবাদী অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে। সীমান্তে প্রহরা জোরদার করা হয়েছে, এবং সেনা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে। সেখানকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানি প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ জমিয়ে রেখেছিল। দুর্নীতি, অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব এবং প্রশাসনিক অবহেলার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে। এই ক্ষো...

নেপালকে অর্থনৈতিক বৈচিত্র আনতেই হবে, নাহলে সমূহ বিপদ

Image
শ্রীলংকা ও বাংলাদেশ থেকে শিক্ষা নিতে হবে নেপালকে  এবং, তারপর (১৬/০৯/২০২৫ )  : হিমালয়ের কোলে ছোট্ট দেশ নেপাল, ভৌগলিক দিক থেকে যেমন গুরুত্বপূর্ণ,, রাজনৈতিকভাবেও তেমনি সংবেদনশীল।  ভারতের সাথে গভীর সম্পর্ক ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব  নেপালকে এক বিশেষ ভূরাজনৈতিক অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।  কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক দুর্বলতা এবং সামাজিক চাপে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই শ্রীলংকা, ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তির মত মনে হচ্ছে। একইভাবে এই দেশগুলিতে মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে এসে বিদ্রোহ প্রদর্শন করেছে। সরকারি সম্পত্তি বিনষ্ট করেছে। সরকারের পতন ঘটেছে এবং রাষ্ট্রনায়করা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন।  নেপালে বার বার সরকার পরিবর্তন, জোট রাজনীতি ও নেতৃত্বের অভাব সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করেছে।  শ্রীলংকাতেও একক রাজনৈতিক পরিবার তন্ত্র ও ভুল সিদ্ধান্ত জন রোষ সৃষ্টি করেছিল। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও বিরোধী দলীয় সংকট গন্তান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট।  তিন দেশেই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা অর্থনীতি ও সমাজকে সরাসরি প্রভাবিত ক...

জঙ্গীদের এতো সাহস আসে কোথা থেকে ?

Image
এবং তারপর :   কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈশরণ  উপত্যকায় পর্যটকদের ওপর জঙ্গীরা যে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যাকান্ড করে গেল, তাতে গোটা ভারতের আত্মা পর্যন্ত কেঁপে উঠেছে।    জঙ্গীরা এসেছিল পাকিস্তান থেকে। সীমান্ত পার করে তারা আট কিলোমিটার ট্রেক করে এসে পৌঁছেছিল বৈশরণ  উপত্যকায়। সেখানে তারা ক্যাম্প করে  ছিল, ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ৪০ মিটার দূরে। তাদের অস্থায়ী শিবির থেকে অকুস্থলের ওপর নজর রাখা কংবা রেইকি করা নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী হয়ে  তবেই তারা তাদের টার্গেটকে হিট করেছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি নম্বর  বিহীন মোটর সাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে, অবশ্য এখনো জানা যায় নি এই মোটরবাইকটি কাদের। পহেলগাঁওয়ের হত্যাকান্ড অবশ্যই তাৎপর্যপূর্ণ। এখানে জঙ্গীরা নির্বিচারে  গুলি চালিয়ে ভারত সরকারকে একটা নির্দিষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে , বলতে চেয়েছে "তোমাদের থোড়াই কেয়ার করি"।  কয়েকজন পর্যটকদের গুলি করে মেরে ফেলে কয়েকজনকে ছেড়ে দিয়েছে আর বলেছে যায় মোদীকে গিয়ে বলো,, যেন পাড়ার গুন্ডা বলছে ডাক তোর কে বাবা আছে ?  কিসের জন্যে এই বার্তা ?  তিন তালাক তু...

খাঁচার মধ্যে ভয়ে কাঁটা, বলির পাঁঠা

Image
এবং তারপর, 27/12/2021 :  বলির পাঁঠা, অদ্ভুত শব্দ যুগল ! অর্থাৎ বলি দিতে হলে একটাই পশুর নাম উচ্চারণ করা হয়। আর সে হল পাঁঠা বা ছাগল। তা সে বলি দিতেই হোক, চামড়া ছাড়িয়ে মাংসের দোকানে হেঁট মুণ্ড উর্দ্ধ পদে ঝুলিয়ে রাখাই হোক অথবা সুন্দরবনের গ্রামে বাঘ ধরতে ফাঁদ পাতার জন্যেই হোক। বলির উৎসর্গ হতে হবে পাঁঠা বা ছাগলকেই।  কুলতলি বা ঝড়খালি গ্রামগুলো একেবারেই সুন্দরবন্ লাগোয়া। এই গ্রামগুলোতে প্রায়ই বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পাওয়া যায়। নদী সাঁতরে সুন্দরবনের অরণ্য থেকে বাঘ ঢুকে পড়ে বন লাগোয়া গ্রামগুলোতে। বাঘের পায়ের ছাপ দেখা গেলেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে, খুব স্বাভাবিক সেটা। মুহুর্তে খবর চলে যায় পুলিশ এবং বন দপ্তরে।  বাঘ আগমনের খবর পেয়ে তৎপর হয়ে ওঠেন বন দপ্তরের আধিকারিকরা। শুরু হয়ে যায় বাঘ খোঁজার প্রাথমিক কাজ কর্ম। এবার কিভাবে যেন খবর পৌঁছে যায় সংবাদ মাধ্যমে। সংবাদ পত্রে বা টেলিভিশনে বাঘের পায়ের ছাপ দেখেই সরকার বাহাদুরের কপালে চিন্তার ছাপ পড়তে শুরু করে। ওপর মহল থেকে চাপ আসতে থাকে যাতে দ্রুত বাঘ ধরা হয়। যেন একজন মানুষের (ভোটারের) গায়েও আঁচড়টুকুও না লাগে। ওপর মহলের চাপ এসে পড়ে ঘটনা...

বছরে ৫ বা তার বেশি ঘূর্ণিঝড় দেশে বিপর্যয় ডেকে আনছে

Image
  লেখক : অরিন্দম নন্দী  (সাংবাদিক) এবং তারপর, ২৮/০৫/২০২১ :  ভারতবর্ষে ক্রমশই বেড়ে চলেছে ঘূর্ণিঝড়। তা সে বঙ্গোপসাগরেই  হোক অথবা আরব সাগরে। প্রতিবছর একাধিক ঘূর্ণিঝড়ের সম্মুখীন হতে হচ্ছে ভারতবাসীকে। আর এই ঘূর্ণিঝড়গুলির কারন হিসেবে দেশের জলবায়ুর পরিবর্তনকেই দেখছেন ভূবিজ্ঞানীরা। ভারতে জলবায়ু এখন বেশ কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। ঠিক সময় অর্থাৎ ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে আবহাওয়ার পরিবর্তন হচ্ছে না দেশের সব জায়গায়, এর ফলে বাড়ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ফলে বেড়ে চলেছে দুর্ঘটনা এবং মৃত্যুর সংখ্যাও। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানুষের বদভ্যাস, নিয়ন্ত্রণহীন জীবন ও জীবিকাকেও দায়ী করেছেন বিজ্ঞানীরা। এমনকি অজ্ঞতা এবং শিক্ষার অভাবের কারণেও বিধ্বংসী প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে আসছে মানুষের জীবনে। ভারতবর্ষের মত দেশেও উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা কিনা গোটা বিশ্বের সামনেও বিরাট মাপের বিপদকে এগিয়ে আনছে।  সমস্যাটা হল, ভারতে এই বিষয়গুলি নিয়ে সেভাবে প্রচার করা হয় না।  দেশে উষ্ণতা বাড়ছে, অথচ সেই উষ্ণতা থেকে রেহাই পেতে প্রত্যেকে ঘরে এয়ার কন্ডিশন লাগিয়ে যাচ্ছেন সামর্থ্য অনুযায়ী। বাতানুকূল মেশিনগুলি থেকে সমষ্ট...

ভোটের আগেবি যুযুধান দুই পক্ষের ইস্তাহার যুদ্ধ

Image
লেখক : অরিন্দম নন্দী     এবং তারপর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ ২২/০৩/২০২১ : এবার পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা    নির্বাচনকে ঘিরে টান টান উত্তেজনার সাক্ষী থাকতে চলেছেন বঙ্গবাসী। দুই পক্ষের লড়াই এবার জমে উঠেছে। একদিকে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং আর একদিকে ভারতীয় জনতা পার্টী। তৃণমূল রাজ্যে তাদের শাসন ব্যবস্থা নিজেদের হাতের মুঠোয় ধরে রাখতে সব রকম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, উল্টোদিকে বাংলায় নিজেদের শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে, নতুন সরকার প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি। যুযুধান দুই পক্ষের লড়াইয়ে কে জিতবে, বাংলায় পরিবর্তন হবে নাকি প্রত্যাবর্তন হবে সেটা দেখতে হলে ২রা মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে। ওই তারিখেই নির্বাচনের গণনা হবে এবং রাজ্যের জোড়া ফুল এবং পদ্মফুল শিবিরের ভাগ্য নির্ধারণ হবে।আর মাত্র ৪১ দিনের অপেক্ষা। ভোটের আগেই তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে অবশ্য আরও একটা যুদ্ধ দেখা গেল। সেটা হল ইস্তেহারের যুদ্ধ। দুই রাজনৈতিক দলই নিজেদের ইস্তেহার প্রকাশ করে দিয়েছে। কিন্তু একটা অদ্ভুত ব্যাপার হল দুই রাজনৈতিক দলই  এবার তাদের ইস্তেহারে যে বিষয়গুলি...