জঙ্গীদের এতো সাহস আসে কোথা থেকে ?
এবং তারপর : কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈশরণ উপত্যকায় পর্যটকদের ওপর জঙ্গীরা যে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যাকান্ড করে গেল, তাতে গোটা ভারতের আত্মা পর্যন্ত কেঁপে উঠেছে।
জঙ্গীরা এসেছিল পাকিস্তান থেকে। সীমান্ত পার করে তারা আট কিলোমিটার ট্রেক করে এসে পৌঁছেছিল বৈশরণ উপত্যকায়। সেখানে তারা ক্যাম্প করে ছিল, ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ৪০ মিটার দূরে। তাদের অস্থায়ী শিবির থেকে অকুস্থলের ওপর নজর রাখা কংবা রেইকি করা নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী হয়ে তবেই তারা তাদের টার্গেটকে হিট করেছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি নম্বর বিহীন মোটর সাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে, অবশ্য এখনো জানা যায় নি এই মোটরবাইকটি কাদের।
পহেলগাঁওয়ের হত্যাকান্ড অবশ্যই তাৎপর্যপূর্ণ। এখানে জঙ্গীরা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ভারত সরকারকে একটা নির্দিষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে , বলতে চেয়েছে "তোমাদের থোড়াই কেয়ার করি"। কয়েকজন পর্যটকদের গুলি করে মেরে ফেলে কয়েকজনকে ছেড়ে দিয়েছে আর বলেছে যায় মোদীকে গিয়ে বলো,, যেন পাড়ার গুন্ডা বলছে ডাক তোর কে বাবা আছে ? কিসের জন্যে এই বার্তা ? তিন তালাক তুলে দেওয়ার জন্যে ? কাশ্মীর থেকে ৩৭০ অবলুপ্তির জন্যে ? নাকি কিছুদিন আগেই ওয়াকফ সংশোধনী আইনের জন্যে ?
জম্মু ও কাশ্মীরের সর্বত্র সেনাবাহিনীর টহলদারি রয়েছে, প্রায়ই এনকাউন্টার হচ্ছে। তারপরেও কিভাবে এতবড় একটা হত্যাকান্ড করতে পারলো জঙ্গীরা ? ঘটনাস্থল বেছে নেওয়া থেকে শুরু করে ঘটনাস্থল থেকে পালানো, সবটাই ছিল সুপরিকল্পিত। লিডার নদীর কাছে এই বৈশরণ উপত্যকা অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি পর্যটন কেন্দ্র। চতুর্দিকে পাহাড়ে ঘেরা পাইন বন। আকাশের বুকে মাথা তুলে রয়েছে তুষারশুভ্র শিখরগুলি। পাশেই খরস্রোতে বয়ে চলেছে লিডার নদী, সেখানে রাফটিং করা হয়। মাঝখানে সবুজ গালিচার মত ঘাসের উপত্যকা, ঘোড়ার পিঠে চড়ে ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন পর্যটকেরা। তাই ফি বছর পর্যটকেরা ভীড় করেন এখানে। এই মুহূর্তে কাশ্মীরে টিউলিপ সিজন, আর তাই কাশ্মীরের সর্বত্র ভীড় বেশি। আর সেই সুযোগটাকেই কাজে লাগিয়েছে জঙ্গীরা।
অকুস্থলে এসে জঙ্গীরা পর্যটকদের পুরুষ ও মহিলাদের আলাদা করেছে। তারপর সকলের নাম, ঠিকানা ও ধর্ম জেনে নিয়েছে। পুরুষদের প্যাণ্ট খুলিয়ে ধর্ম সম্বন্ধে নিশ্চিত হয়েছে। তারপর ঠান্ডা মাথায় গুলি চালিয়ে মেরেছে। এই ঘটনায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ৩৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। এই খবরে গোটা দেশ মুহ্যমান।
এত সাহস আসে কোথা থেকে ? কে আছে এই জঙ্গীদের পিছনে ? কিভাবে তারা এতটা শক্তিমান হয়ে উঠেছে ? ভারতের মত বিশ্বের চতুর্থ শক্তিমান দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গেলো মাত্র ৬ জন দুষ্কৃতী ? মাত্র ছয়টি অস্ত্র হাতে তারা এতবড় একটি দেশকে ওপেন চ্যালেঞ্জ জানালো ? সীমান্ত পার করে এদেশে ঢুকে তারা সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে নিশ্চিন্তে বেরিয়ে যাচ্ছে ? কাশ্মীর কিংবা মুর্শিদাবাদ, সীমান্ত পার করে ওরা আসছে এদেশে আর অত্যাচার চালাচ্ছে ভারতীয়দের ওপর. তারপর নিরাপদে ফিরেও যাচ্ছে। ধর্মের নামে তারা এই অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ বিশ্বের চতুর্থ শক্তিধর হয়েও তর্জন গর্জন ছাড়া ভারত কি আর কিছুই করতে পারছে ?
কাশ্মীর কাণ্ডের উচিত জবাব দিতে ভারত চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। কারন কাশ্মীরে শুধুমাত্র কয়েকজন পর্যটককেই হত্যা করা হয় নি. জঙ্গীরা চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে গোটা দেশকে। অসম্মান করেছে ভারতবর্ষকে, ভারতের ১৪০ কোটি মানুষকে, ভারতের সংবিধানকে, সংসদকে, সুপ্রীম কোর্টকে, ভারতের ইতিহাসকে, ভারতের বিশ্বাসকে। আর এই অসম্মান কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে আত্মসম্মান প্রিয় তামাম ভারতবাসীকে।
সম্ভবত বড় কিছু অপেক্ষা করছে আগামী দিনগুলোতে । লস্কর ই তৈবা কাশ্মীর হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। ভারত নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে লস্কর জঙ্গীদের আঁতুরঘর পাকিস্তান রয়েছে এর পিছনে। বিশ্বের অনেকগুলি শক্তিধর দেশকে পাশে পেয়ে গিয়েছে ভারত। এবার আর একটা দুটো সার্জিকাল স্ট্রাইক নয়, বড় কিছু একটা অপেক্ষা করে রয়েছে। এমনটা হতে পারে, পাকিস্তানের মাটিতে ঢুকে ভারতের সেনাবাহিনী লস্কর ই তৈবার সব ঘাঁটিগুলিকে শেষ করে দিয়ে এল. অথবা ঘটতে পারে আরও, আরও বড় কিছু।

Comments
Post a Comment